দশম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভার সঙ্গে ১৯ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন ব্রাড ইভান্স। এর মধ্যে ৩৫ রানই আসে ইভান্সের ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত তার ৪৩ রানের ইনিংস কেবল জিম্বাবুয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। কারণ প্রথমে ব্যাট করে ২৫৪ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৪৭ রানে গুটিয়ে গিয়ে ১০৪ রানের বড় হার দেখল জিম্বাবুয়ে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের এই ম্যাচে ২৫৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১০৩ রানের মধ্যে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে ডিওন মায়ার্স (২৮) ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা (২৭) ছাড়া এই সময়ে কেউই আস্থা হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ইভানসের ব্যাটে কিছুটা মানরক্ষা হয় জিম্বাবুয়ের।
এর আগে, শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েলের ঝোড়ো দুই অর্ধশতকে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করে ক্যারিবীয়রা। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার, ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে তুলেছিল ২৬০ রান। এদিন ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে যৌথভাবে দলীয় সর্বোচ্চ।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রানের পাহাড় গড়লেও এদিন শুরুটা ভালো ছিল না ক্যারিবীয়দের। মাত্র ১৭ রানে তৃতীয় ওভারে ফিরে যান ডানহাতি ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং (৯)। এরপর হেটমায়ার ও অধিনায়ক শাই হোপ দ্বিতীয় উইকেটে ৩৭ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ বলে ব্র্যাড ইভান্সের শিকার হয়ে ১২ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন হোপ।
হোপের বিদায়ের পর চার নম্বরে নেমে পাওয়েলকে নিয়ে দাপট দেখান হেটমায়ার। তৃতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৫১ বলে ১২২ রানের দুর্দান্ত জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৫তম ওভারে গ্রেইম ক্রেমারের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। তার ইনিংসে ছিল সাতটি ছক্কা ও সমানসংখ্যক চার। তিনিই দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
এর নয় বল পর ব্লেসিং মুজারাবানির শর্ট ডেলিভারিতে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে তাশিঙ্গা মুসেকিওয়ার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন পাওয়েল। তিনি ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা ও চারটি চার। শেষদিকে রোমারিও শেফার্ড (২১) ও শেরফেন রাদারফোর্ড (৩১ অপরাজিত) ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংস খেলে রান তোলার গতি বজায় রাখেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও মুজারাবানি দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া ক্রেমার ও ইভান্স একটি করে উইকেট শিকার করেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

